কবিতাগুচ্ছ ///মাঈন উদ্দিন জাহেদ
বায়োস্কপ : কবিতার নেট ভার্সন মায়ার বাঁধন কী? মায়ার বাঁধনে জড়ায় কী শুধু নারী? আমি প্রেমের পর্বে পর্বে তা অতিক্রম করেছি। “তুমি’ শব্দটা এখন বড় বেশী পুরোনো- তেতো হয়ে গেছে। যাপনের গদ্যে-পদ্যে এখন ভেড়ায় না পান্শী। পদ্যের পদবিন্যাসের ঢুকে গেছে বেয়ারা নেংটো শব্দ- ক বলতে কড়ি বুঝায়, কবিতা বুঝায় না, খ বলতে খাদ্য বুঝায়- খানসামা বুঝায় না, গ বলতে গদা বুঝায় গাঢ় বুঝায় না, ঘ বলতে ঘর বুঝায় ঘাস বুঝায় না, ঙ তে ব্যাংক বুঝায় ব্যাঙ বুঝায় না।
কবিতা এখন ব্যাঙ পর্বও পার হয়ে এসেছে। এখন চলছে কবিতার নেট ভার্সন। সকালের কবিতা দুপুর পার হতেই নতুন সংস্করণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে তরঙ্গে-তরঙ্গে, ডেস্কটপকে ছাড়িয়ে ল্যাপটপে, ল্যাপটপকে ছাড়িয়ে মুঠোফোনের ছোট্ট স্ক্রীনে। কবিতা এখন প্রয়োজনের পংক্তি হয়ে বিকোচ্ছে প্রেমিকার গীফ্ট আইটেমের টাইটেল লাইন হয়ে...। নিয়ত প্রয়োজন হচ্ছে জীবনবাদী কবিতার, জীবন নেওয়ার কবিতার, টানের কবিতার, টানার কবিতার, রাখার কবিতার, বাঁধনের কবিতার, ভাগের কবিতার, ভোগের কবিতার, সুখের কবিতার, শখের কবিতার, দুঃখের কবিতার, দ্রোহের কবিতার, কামের কবিতার-কাজের কবিতার, এমন কি বিজ্ঞাপনে কবিতা বিকোচ্ছে এখন অহরহ।
কবি এখন প্রয়োজনের বাঁধনে জড়ায়ে- মুদ্রার বাঁধনে জড়ায়ে শব্দে শব্দে দ্যায় বিয়ে। রূপজীবী নারীর মত সকাল-সন্ধ্যা সাজে কবিতা- রূপপূজারীর জন্য। সেখানে নারী কই? রমণই মুখ্য। রমণ কই? ভোগই মুখ্য। ভোগ-লেহন-মৈথন-রিরিংসার ডেস্কটপ হয়ে ল্যাপটপ হয়ে, মুঠোফোন হয়ে কবিতা এখন সর্বগ্রামী। কোথায় নেই কবিতা? তরঙ্গে তরঙ্গে ভাসছে কবিতা...। ভাসছে শব্দ, ভাসছে কাম, ভাসছে ভোগ, ভাসছে ম্যাডোনা, ভাসছে লোপেজ, ভাসছে মারিয়া কেরী, ভাসছে কো-কো-লী। হুমায়ুনের লালা, তৌকিরের আফসোস, নূরের কামনা- সারার বাসনা- লাক্স অনিন্দ্য সুন্দরী কিংবা আমার বোনের সাজবার ছোট্ট ঘরের একান্ত মূহুর্তগুলো কবিতা হয়ে বিকোচ্ছ এখন ইথারে ইথারে।
সব, সব, সব ভাসছে-মুখ ভাসছে, ভ্র“ ভাসছে, দাঁত ভাসছে, দেহ ভাসছে ভাসতে ভাসতে পূঁজি হয়েÑ মুনাফা হয়ে, উৎপাদনশীল চাহিদা ও যোগান হয়েÑ কবিতা হয়ে গেছে সব। সব লাল-নীল-বেগুনী বায়োস্কোপ... কবিতা... কবিতাবায়োস্কোপ.....!!!
কবি ও ঘরণী ঃ এক বর্ষার গল্প
ভারী বর্ষায় বউ চলে গেছে বোনের বাড়ী টুপ্টাপ্ বৃষ্টি পড়ছে ভেতরে;
তার চেয়ে বেশী পড়ছে টিনের চালের ফুটোয়;
ভিজছে তৈজষ- বউয়ের সতীন বই আর একান্ত কাপড়-চোপড়।
রাগ আমারও হয় ভেতরের ভেজা-ভেজী বন্ধ করে কেউ এভাবে চলে গেলে হয়?
হয়না কিছুই, না যাপন না বর্ষণ।
এ প্রবল বর্ষায়ও বর্ষণের খড়ায় পুড়ছি আমি, পুড়ছে আমার সংসার- পুড়ছে বাংলাদেশ।
ফুটো আকাশে নিয়তঃ দেখা যায় চাঁদ ও মেঘের ভেলা উনো সংসারের ফুটো যায় না নাটা।
প্রবল বর্ষণে ভেসে যায় জুতো- সেন্ডেল মাঝে মাঝে হাড়ি ও পাতিল কিংবা আমার সন্তানের খেলনার প্রিয় জিনিসগুলো; কেবল সামলাতে থাকি, সামলাতে সামলাতে পকেট উজাড় আর কত সামলাবো! এটা তুলতে ওটা পড়ে তুলতে তুলতে কাপড়টা লজ্জাকে অতিক্রম করছে বড় বেশী বেহায়া হই- বারে ক্রোধ- উত্থিত পৌরুষ শাসাতে থাকে ঘর-সংসার-সমাজ-রাষ্ট্র-বাজারদর-মঈন ইউ-বুদ্ধিজীবী, কন্জুমার সোসাইটি, সব সব- সব্বাইকে। সব্বাই বেহায়া হয়ে কাপড় তুলে আছে, আর প্রবল বর্ষণে ফুটো আকাশের তলে আজ কোনো বাংলাদেশীর কোনো ঘর গেরস্থালী নেই।
ইসতিহার
আমি রৌদ্র দাবানো ছেলে
এই শহরের বাদামি কাক;
শৈশব থেকে সাইনাস
শৈশব থেকে সানগ্লাস।
আমি রৌদ্র দাবানো ছেলে
এই শহরের ধূলিউড়ানো ট্রাক।
ট্রাকে ট্রাকে মিছিল-শ্লোগান
কাকফাটা নাগরিক উল্লাস।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন